সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণপূর্তে ‘মিস্টার ১৫%’ বিতর্ক : নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের দাবি জোরালো

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ৩, ২০২৬ ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

×জনতার আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি দমনে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে বিভিন্ন কমিশন ও নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পরও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুরোপুরি থামেনি বলে অভিযোগ উঠছে। কোথাও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, কোথাও আবার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ কর্মরত থাকাকালে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অঙ্কের টেন্ডারে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডারসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস, ঠিকাদার নির্বাচনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার অনুমোদনের আগেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ, কাজ সম্পন্ন না করেও ভুয়া ভাউচার ও বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রের দাবি, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন এক সাবেক সচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি প্রশাসনিকভাবে বিশেষ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তিনি নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে নানা ব্যয় দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করেছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতীতে তাকে একাধিকবার বদলি করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

অভিযোগ আরও রয়েছে, নিজের নামে, স্ত্রীর নামে এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, রামপুরা বনশ্রীর ব্লক-ডিতে পাঁচতলা বাড়ি, বনশ্রীর এফ ব্লকে স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা সিটির পঞ্চম তলায় দুটি বাণিজ্যিক দোকান এবং মোহাম্মদপুর বাবর রোডে ১০ কাঠার একটি প্লটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক দশ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই সম্পদগুলোর উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানার ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে যথাযথ তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনস্বার্থে এখন প্রশ্ন উঠেছে—যদি উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করা হোক। আর যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর প্রতি সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সম্পদের উৎস, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল-ভাউচার, সরকারি অর্থ ব্যয় এবং অভিযোগে উল্লিখিত সকল তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হলে শুধু একটি অভিযোগের নিষ্পত্তিই হবে না, বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিরও বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে।

প্রতিবেদনটি উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ