দৌলতপুরে চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন, অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে স্কুলছাত্রী। ছবি সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করেন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীর নাম জান্নাত আরা খাতুন। সে দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম ও সুলতানা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। জান্নাত পাকুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই হঠাৎ পেটব্যথা শুরু হলে জান্নাতকে দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুণ্ডি এলাকার তানিম প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ধীরে ধীরে আরও অবনতি ঘটে বলে পরিবারের দাবি।
জান্নাতের স্বজনদের অভিযোগ, ওই হাসপাতালে চিকিৎসক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও প্রশিক্ষিত নার্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় জান্নাত ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে।
অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত জান্নাতকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, শুরুতেই যদি সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হতো, তাহলে জান্নাতের শারীরিক অবস্থার এতটা অবনতি হতো না।
এ ঘটনায় তানিম প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন জান্নাতের স্বজনরা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
