সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আউটসোর্সিং নিয়োগে ৪–৫ লাখ টাকা!এলজিইডির সিআরএএলইপি প্রকল্পে ‘চাকরি-বাণিজ্য’ ঘিরে তোলপাড়, প্রশ্নের কেন্দ্রে পিডি সনিয়া নওরিন

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কাগজে উন্মুক্ত টেন্ডার, মূল্যায়নে নির্ধারিত ৭০ পয়েন্ট—তবু চাকরি পেতে লাখ লাখ টাকা?। প্রকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের যোগসাজশের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। ফাইল ছবি

কাগজে সবই নিয়মমাফিক—উন্মুক্ত টেন্ডার, নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু এই নিয়মের আড়ালেই কি চলছে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের ‘চাকরি-বাণিজ্য’?

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জলবায়ু সহনশীল ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরএএলইপি)-এর আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে ঘিরে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটে জনবল সরবরাহের সুযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পদভেদে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শুধু অর্থ দাবির অভিযোগই নয়—প্রার্থী বাছাই, তালিকা প্রস্তুত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

‘উন্মুক্ত’ টেন্ডার, কিন্তু প্রার্থী কি আগেই ঠিক?

টেন্ডার নথি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে CRE_NCS_1001 প্যাকেজের আওতায় পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটের জন্য আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নথিতে টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি 1308828 এবং প্রকল্প কোড 224421900। ক্রয় পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM)। টেন্ডার সিকিউরিটি ৩০ লাখ টাকা, ডকুমেন্টের মূল্য ৪ হাজার টাকা এবং মূল্যায়নে পাসিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০।

নথি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে প্রায় চার বছর প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করতে হবে। সম্ভাব্য সেবা শুরুর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং সমাপ্তির তারিখ ২৯ আগস্ট ২০৩০।

অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি এই সরকারি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের সুযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর আর্থিক পরিসরও বড়। আর ঠিক সেই জায়গাতেই উঠেছে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ।

চাকরিপ্রতি ৪–৫ লাখ! কার পকেটে যাবে টাকা?

অভিযোগকারীদের দাবি, আউটসোর্সিং পদে চাকরি পেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি শুধু বাইরের কোনো দালালচক্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকল্পের অভ্যন্তরের একটি অংশও প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

এমন অভিযোগ সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—উন্মুক্ত টেন্ডার ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতির পরও যদি চাকরিপ্রার্থী আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোথায়?

আর যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে কারা এই অর্থ দাবির কথা বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে—সেটিও তদন্ত করে বের করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্নের কেন্দ্রে পিডি সনিয়া নওরিন

অভিযোগের তীর উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সনিয়া নওরিনের দিকেও। তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পটি ‘একনায়কতান্ত্রিকভাবে’ পরিচালনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তুলেছেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে—

* প্রার্থী বাছাইয়ে কারা যুক্ত?

* ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্পের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগ রয়েছে?

* চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে কি না?

* এসে থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

* এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সামনে আসা জরুরি।

চার বছরের টেন্ডার, তাই অভিযোগও গুরুতর

প্রায় চার বছর ধরে জনবল সরবরাহের এই টেন্ডারকে ঘিরে যদি সত্যিই জনপ্রতি লাখ লাখ টাকা লেনদেনের চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি কেবল ‘চাকরি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের প্রশ্নও।

একদিকে সরকারি নথিতে OTM ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি, অন্যদিকে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ—এই দুই বিপরীত চিত্রের সত্যতা যাচাই এখন অত্যন্ত জরুরি।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

পিডির বক্তব্য কী?

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির বিষয়ে প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্ন এখন একটাই—কাগজে যদি সবকিছুই উন্মুক্ত ও নিয়মমাফিক হয়, তাহলে আউটসোর্সিং চাকরিতে ৪–৫ লাখ টাকার এই ‘দরদাম’ কারা করছে? আর এর পেছনে যদি কোনো সিন্ডিকেট থেকে থাকে, সেটি কার ছত্রছায়ায়?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।