মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা কাস্টমসে ‘হরিলুটের’ অভিযোগ: সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন মন্ডলকে ঘিরে বিস্ফোরক প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঘুষ-কমিশন, শুল্ক মূল্যায়নে কারসাজি ও দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ; স্ত্রী-সন্তানের নামে সম্পদ, বিদেশ সফর ও বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন। ফাইল ছবি

ঢাকা কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন মন্ডলকে ঘিরে উঠেছে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি কথিত ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’, যার আর্থিক প্রভাব ও সম্পদের বিস্তার রাজশাহী, জয়পুরহাট, খুলনা ও যশোর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে এবং একাধিক বেনামি পরিচয়ে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক সম্পত্তি অর্জন করেছেন হাফেজ উদ্দিন মন্ডল। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস কী—তা নিয়েই উঠেছে নানা প্রশ্ন। একই সঙ্গে ঘন ঘন বিদেশ সফর, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অস্বাভাবিক ব্যয়ের উৎস নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘নগদ ঘুষ থেকে কমিশন’—ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগ

ঢাকা কাস্টমস হাউসের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, হাফেজ উদ্দিন মন্ডল সরাসরি নগদ অর্থ দাবি ও গ্রহণ করেন। অনৈতিক সুবিধা না দিলে পণ্যের ছাড়পত্রে বিলম্ব করা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি কিংবা হয়রানির মুখে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কথিত দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের শুল্ক মূল্যায়নে কারসাজি করে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিনিময়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ কখনো নগদে, কখনো বিকাশে, আবার কখনো চা-দোকান, গাড়ির ড্যাশবোর্ড কিংবা নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চালান আটকে ‘ভয় দেখিয়ে’ অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—কিছু বাণিজ্যিক চালান আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। মামলা, তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার ভয় দেখিয়ে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে শুল্ক ও কর ফাঁকির কৌশল এবং নিয়মের ফাঁকফোকর ব্যবহারের পথ দেখিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্ত্রী-সন্তানের নামে সম্পদ, বিদেশ সফরেও প্রশ্ন

হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের পারিবারিক সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী-সন্তানের নামে জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারসহ একাধিকবার বিদেশ সফর এবং বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, তার নামে-বেনামে ব্যাংক হিসাব, জমি নিবন্ধন, ফ্ল্যাট বুকিং এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘রাজস্ব লুণ্ঠন চক্র’—তদন্তের দাবি

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি কোনো একক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, বিদেশ ভ্রমণের অর্থের উৎস এবং শুল্কায়ন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত দালাল ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভূমিকারও তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।

অভিযোগকারীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাদের ভাষ্য, রাজস্ব আদায়ের মতো স্পর্শকাতর খাতে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।