অনলাইন প্রতারণা চক্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার; ১১৮ গ্রাম কোকেন মামলার দুই আসামিরও পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন। ফাইল ছবি
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিসি)। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের মামলার দুই আসামি এস এম মহসিন ও রিয়াদুল আহম্মেদের পাঁচ দিন করে পৃথক রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই মামলার বাদী পৃথকভাবে এসব রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে উভয় মামলার রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
কোকেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ তানভীর ভূইয়া বলেন, ‘কোকেন মামলার দুই আসামি এস এম মহসিন ও রিয়াদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছি।
পুলিশের এসআই রাজীব কান্তি দে বলেন, ‘৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাইবার আইনের মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। কোকেন মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, উভয় রিমান্ডের শুনানি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
কুরিয়ার সার্ভিসে মিলল ১১৮ গ্রাম কোকেন
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশী ২ নম্বর রোডের বিশ্রাম ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ‘স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেড’-এর মাধ্যমে কোকেনের একটি চালান ঢাকায় পাঠানোর তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ওই দিন বুকিংয়ে থাকা সব মালামাল তল্লাশি করে দুটি পলিব্যাগ থেকে ৬০ গ্রাম ও ৫৮ গ্রাম—মোট ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়।
পুলিশের হিসাবে, উদ্ধার করা কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আব্দুর ওউফের ছেলে রিয়াদুল আহম্মেদ এবং ঢাকার উত্তরা দক্ষিণখানের কলিল বক্স রোডের মো. আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়।
কোকেনের সূত্র ধরে তদন্ত, এরপর ৬৩ বিদেশির সন্ধান
কোকেনের চালান আটকের পর পুলিশের গোয়েন্দারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পান।
পুলিশের দাবি, প্রায় পাঁচ দিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর থানা পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা, র্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই ভবনে অভিযান চালান।
অভিযানে ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরে সার্ভার স্টেশন তৈরি করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযান শেষে ভবনটি থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিদের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।
পরে তাদের সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এখন ওই ৬৩ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে কোকেন মামলার দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে এসব আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
