সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাইকোর্টে বাতিল চেয়ারম্যানের নির্বাচন বন্ধের আদেশ, নিয়োগেও বিধি না মানার অভিযোগ; চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার দাবি। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় চেয়ারম্যানের জারি করা আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা নেই। এর মধ্যেই সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিধি-বিধান অনুসরণ না করে চেয়ারম্যান একের পর এক আদেশ জারি করছেন। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে সোসাইটির শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে বলেও অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও অস্থিরতা।

চেয়ারম্যানের একক আদেশে নির্বাচন বাতিল

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ২৯৭তম ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিডিআরসিএস ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬-এর জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একমাত্র আইন প্রেসিডেন্ট অর্ডার (পিও-২৬) অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, তফসিল অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমাসহ পিও-২৬ অনুযায়ী সব কার্যক্রম চলছিল।

এ অবস্থায় হঠাৎ গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এসজি (ওজিএম-বিজ্ঞপ্তি) ১০০৫/২০২৬ এবং এসজি/সোব্যাপনি (ইউ.এ্যাফে)-১০১১/২০২৬ নম্বর চিঠি জারি করা হয়। ওই চিঠিতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রেড ক্রিসেন্টের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নির্বাচন এবং বিডিআরসিএস নির্বাচন কমিশন-২০২৬ বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ বিষয়ে সোসাইটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ, বাতিল চেয়ারম্যানের আদেশ

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আইন অনুযায়ী সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনসাপেক্ষে নেওয়ার কথা এবং তাঁর অনুমোদনক্রমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন বা অফিস অর্ডার জারি করে। অন্যদিকে সোসাইটির চেয়ারম্যান রেড ক্রিসেন্টের ৬৮টি ইউনিট কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ১০ সেপ্টেম্বরের চিঠির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নির্বাচন কমিশন-২০২৬ এবং নির্বাচন বাতিলের ঘটনায় সারা দেশের ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন বাতিলের আদেশকে বেআইনি মনে করে হাইকোর্টে রিট করেন। এ বিষয়ে দায়ের করা হয় রিট নম্বর ১৩২৫৭/২০২৬।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত নির্বাচন কমিশন বাতিল এবং নির্বাচন বাতিলের চিঠিকে বেআইনি ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট দুটি অফিস অর্ডার বাতিল করে দেন। ফলে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মহাসচিব-উপমহাসচিবকে সরিয়ে নতুন নিয়োগের অভিযোগ

এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ মহাসচিব ও উপ-মহাসচিবকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরপর কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পরীক্ষা ছাড়াই নতুন মহাসচিব ও উপ-মহাসচিব হিসেবে যথাক্রমে মো. হাবিবুর রহমান খান ও মো. এহসানে এলাহীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও পরীক্ষা ছাড়াই ফারজানা জেরিন শ্রাবন্তীকে চেয়ারম্যানের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগেও পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, লোক দেখানো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে আবেদনকারী প্রার্থীদের বায়োডাটা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করে চেয়ারম্যানের পিএস আসিফ আলমাস এবং এইচআর কো-অর্ডিনেটর মো. নিজাম উদ্দিনের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীদের শর্টলিস্ট করা হয়।

পরে তাঁদের পরিচিত ও অপেক্ষাকৃত অধিক বয়স্ক ছয়জন প্রার্থীকে সরাসরি পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সহকারী পরিচালক পদে চারজন, অফিসার পদে ছয়জন এবং অফিস সহায়ক পদে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই রিটেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যানকে ৩ লাখ টাকা দিলে ড্রাইভার পদে একজনকে চাকরি দেওয়া হবে—এমন বক্তব্যসংবলিত একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ ও অডিও ক্লিপের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

লিফট ক্রয় নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ

অন্যদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অধীন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের লিফট ক্রয় নিয়েও বড় ধরনের দুর্নীতির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, পাল্টা দাবি মহাসচিবের

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

তবে তাঁর পক্ষে সোসাইটির নতুন মহাসচিব জানান, ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ মেনেই সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত চেয়ারম্যান সকল দায়িত্ব বিধিসম্মতভাবেই পালন করছেন।

তিনি দাবি করেন, একটি বিশেষ সুবিধাবাদী গোষ্ঠী চেয়ারম্যানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিব্রত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নিয়োগসংক্রান্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিদ্ধান্তগুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ