শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাস্টার্স শেষের আগেই জজ হলেন রাজু

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা দেশে ২৬তম, ইবির আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের দ্বিতীয় বিচারক রাজু আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মাস্টার্স শেষ করার আগেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ। বর্তমানে তিনি ওই বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ২০০ জন সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজু আহমেদ ২৬তম স্থান অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে নিজ বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

রাজুর এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, প্রায় এক যুগের খরা কাটিয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে আবারও সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। রাজু ভাই বিভাগের দ্বিতীয় জজ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই অর্জনে বিভাগে নতুন করে উৎসাহ ও আশার সঞ্চার হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে শিক্ষার্থীরাও।

তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে বিভাগকে ঘিরে প্রচলিত নানা নেতিবাচক ধারণা দূর করতেও এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। তার সাফল্য আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

নিজের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজু আহমেদ বলেন, ‘অনার্সের রেজাল্ট পাবলিশ হওয়ার আগেই আমি আবেদন করেছিলাম, মাস্টার্স এখনো চলমান। আল্লাহ আমাকে প্রত্যাশার বেশি কিছু দিয়েছেন। আমি এতটা প্রত্যাশা করিনি যে আমার মেধাক্রম ২৬ আসবে। আল্লাহতায়ালার কাছে সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

নতুনদের উদ্দেশে রাজু বলেন, ‘শর্টকাট পড়াশোনা বাদ দিতে হবে, বিস্তারিতভাবে ও ভালো ভালো বইগুলো পড়তে হবে।

নিজের প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জের বিষয়ে রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমার মাস্টার্স রানিং থাকার জন্য অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এটাকে কন্টিনিউ করে পড়াশোনা করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল জজ হওয়ার। আর প্রথম থেকেই পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে পারিনি। মূল পড়াশোনাটা শুরু করছিলাম থার্ড ইয়ার থেকে। আমি ভালো ভালো লেখকের বই থেকে পড়েছি।

রাজুর সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাজু অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র। এই অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তার এ সাফল্যে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দিত ও গর্বিত। তার প্রচেষ্টা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন।

উল্লেখ্য, ইসলামী আইন ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের কার্যক্রম চালু হয়। দীর্ঘ সময় পর বিভাগটি থেকে আবারও বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।