শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবির একই রুমে থাকা তিন বন্ধু হলেন জজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে বিচারকের আসনে তিন বন্ধু, একজনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বাকি দুজনেরও জয়।ইবির একই রুমে থাকা তিন বন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলের একই কক্ষে থাকা তিন বন্ধু এবার বিচারক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন, শাকির আলম ও আনোয়ার হোসেন—তিন বন্ধুই এখন জজ।

তিনজনই ইবির সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তাদের মধ্যে আরিফ হোসাইন ১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হন। অন্যদিকে শাকির আলম ও আনোয়ার হোসেন এবার ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেই সাফল্যের ধারায় যুক্ত হয়েছেন।

তিন বন্ধুর এই সাফল্যের গল্পের শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই। আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল বিচারক হওয়া। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখে তারা একসঙ্গে ওঠেন সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কক্ষটি হয়ে ওঠে তাদের পড়াশোনা, পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও নিরলস পরিশ্রমের কেন্দ্র।

তাদের সম্পর্কের গল্পে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতাই ছিল মুখ্য। পড়াশোনার কোনো বিষয় কারও বুঝতে সমস্যা হলে অন্য দুজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনজনের কাছে সাফল্য ছিল শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি সম্মিলিত স্বপ্ন পূরণের বিষয়।

তিন বন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে আরিফ হোসাইনের সাফল্য। ১৬তম জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আরিফ বিচারক হওয়ার পরও শাকির ও আনোয়ার থেমে যাননি। বরং বন্ধুর সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। নতুন উদ্যমে তারা প্রস্তুতিতে মনোযোগী হন। শেষপর্যন্ত ১৮তম বিজেএসে তারাও উত্তীর্ণ হয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেন।

সদ্য ১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সকালে নামাজ আদায় করে পড়াশোনা শুরু করতাম, খাবারের সময় একসঙ্গে খাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রুপ স্টাডি করতাম। আরিফ ১৬তম জুডিশিয়ারিতে উত্তীর্ণ হলে আমরা আরও অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা কখনো একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করিনি, সবসময় পরস্পরকে সহযোগিতা করেছি।

সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, ‘প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারেই আমরা তিনজন মেধা তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিই। ওই বছরই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ভাই জজ হলে তাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মৌলিক প্রয়োজনটুকু বাদ দিয়ে সারাক্ষণ পড়াশোনা করেছি। আল্লাহর রহমতে আমরা তিনজনই সফল হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে যে সৎ সঙ্গ, সঠিক লক্ষ্য এবং ত্যাগ থাকলে যৌথ স্বপ্নের চূড়ান্ত জয় সুনিশ্চিত।

একই কক্ষের তিন সহযাত্রীর এই সাফল্য শুধু তিন বন্ধুর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি ইবির আবাসিক হলের একটি কক্ষকে ঘিরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, অধ্যবসায় ও অভিন্ন স্বপ্নের এক অনন্য গল্প হয়ে উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।