ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও শহিদুল ইসলাম বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বহাল রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন বিক্ষুব্ধরা।
২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ
এর আগে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ২৪ জন ঠিকাদার।
লিখিত অভিযোগে ঠিকাদাররা দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন প্রদান না করলে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিল পরিশোধে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হয়।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে বিলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
জামানতের টাকা ফেরতেও অতিরিক্ত অর্থের অভিযোগ
বিক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, কাজের জামানতের টাকা ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বিল আটকে দেওয়া অথবা কাজের সাইটে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্তের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত হবে।
