ঠিকাদার সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দরপত্রে কারসাজির অভিযোগ, সরকারের বাড়তি খরচ ২৫২ কোটি টাকা। ছবি: সংগৃহীত
প্রাক্কলিত দর ফাঁস করে ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ঠিকাদাররা সিন্ডিকেট করে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বই ছাপানোর সরকারের প্রাক্কলিত দর জেনে যান দরপত্র জমা দেওয়ার আগেই। ওই দর তাদের পছন্দ না হওয়ায় তারা জোটবদ্ধ হয়ে প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রাক্কলিত দর বাড়িয়ে দেন।
এরপর ঠিকাদাররা ওই বর্ধিত দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলাদাভাবে তাদের দরপত্র জমা দেন। বোর্ড থেকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর ঠিকাদাররা ভাগাভাগি করে ছাপার কাজ সম্পন্ন করেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে নির্ধারণ করা প্রাক্কলিত দর দ্বিতীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি করায় সরকারের বাড়তি খরচ দাঁড়ায় ২৫২ কোটি টাকা।
অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এনসিটিবি থেকে ওই দরপত্রের প্রাথমিক প্রাক্কলনের নথি, দাপ্তরিক মূল্য তালিকা, বোর্ডের ৪২৩তম সভার কার্যবিবরণীসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন।
সংগৃহীত নথি ও রেকর্ডপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা শিগগির কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবেন। পরে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দুদক থেকে আমলে নেওয়া এ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, কোনো দরপত্রের প্রাক্কলিত দর নির্ধারণের পর তা ঠিকাদারদের জানার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কর্তৃপক্ষ এ পর্যায়ে প্রাক্কলিত দর বৃদ্ধি করলে তা সরকারের ক্রয়নীতি পরিপন্থি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দরপত্রে প্রতিযোগিতা কমে যায়। আর প্রতিযোগিতা কমে গেলে একদিকে সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়, অন্যদিকে কাজের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
