প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন নকশা, বর্তমান সরকারের আমলেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য। ফাইল ছবি
দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের আমলেই এ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সচিবালয়ের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর আদলে তিনটি নকশা চূড়ান্ত করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নকশাগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীতে নতুন সচিবালয়
স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রকল্পের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কের প্রশস্ততা, যানবাহন চলাচলের পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ করতে হবে।
তিনি জানান, নতুন সচিবালয়ের জন্য ইতিমধ্যে তিনটি নকশা তৈরি করা হয়েছে। নকশাগুলো এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে জাতীয় সংসদ ভবনের মতো কোনো ফটক না থাকে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মিত হলে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেখানে গড়ে উঠবে নতুন অবকাঠামো। তবে প্রকল্পের ব্যয়, স্থান নির্বাচন ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় জরিপ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আগেও উদ্যোগ, এবার নতুন পরিকল্পনা
এর আগে ২০১৫ সালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তৎকালীন সরকার।
পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান সচিবালয় চত্বরেই একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিগত সরকার। পাশাপাশি সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে পরিবহন পুল ও জেনারেল পোস্ট অফিসের (জিপিও) জায়গা নিয়ে নতুন সচিবালয় তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুরোনো সচিবালয়ে যাবে অন্য সরকারি দপ্তর
নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজ শেষ হলে পুরোনো সচিবালয় ভবনগুলোতে গুলিস্তান-সংলগ্ন আশপাশের এলাকায় থাকা সরকারি অফিস স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও প্রশাসনিক অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, ব্যয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় জরিপ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এখন চূড়ান্ত নকশা, সম্ভাব্য ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
