সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ, বাস্তবায়ন ও ব্যয় নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ফাইল ছবি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে দরপত্র মূল্যায়ন প্রভাবিত করে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে পরিচালিত এ অভিযানে অভিযোগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে আসার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বাস্তবায়ন, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের মাধ্যমে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু কাজ নির্ধারিত শর্ত ও মান অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে কোন ঠিকাদার বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, কোন প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ কিংবা সরকারি অর্থের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী না করে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের আলোকে বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।

দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র মূল্যায়ন প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে মূল্যায়ন, কার্যাদেশ প্রদান, কাজের অগ্রগতি ও বিল পরিশোধ—প্রতিটি ধাপের নথিপত্র পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের প্রস্তাব, যোগ্যতা যাচাইয়ের নথি, কার্যাদেশ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরীক্ষা করলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ব্যয়, সম্পন্ন কাজের পরিমাণ এবং পরিশোধিত বিলের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা প্রয়োজন।

কাজের বাস্তবায়ন ও সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে বরাদ্দ করা সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব। এ কারণে শুধু দরপত্র প্রক্রিয়া নয়, কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদাররা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করছেন কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজের মান, নির্ধারিত সময়সীমা, বাস্তব অগ্রগতি এবং বিল পরিশোধের তথ্য পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। তবে কোনো কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রয়োজন নথিভিত্তিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই।

দুদকের প্রতিবেদনের দিকে নজর

দুদকের অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে, দরপত্র মূল্যায়নে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না এবং কাজের বাস্তবায়নে কোনো অসংগতি চিহ্নিত হয় কি না—তা পরবর্তী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ও উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহি প্রত্যাশীরা। তদন্তে কোনো অনিয়ম, পক্ষপাত বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠার আগে কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারকে দায়ী করা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের বক্তব্য নেওয়া হলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, দুদকের অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্রের পর্যালোচনা ও পরবর্তী অনুসন্ধানে দরপত্র প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর কী জবাব পাওয়া যায়। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এ অনুসন্ধানের মূল প্রত্যাশা।

সমতল মাতৃভূমি’র অনুসন্ধানে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।