আদালতের প্রকাশিত আদেশে উঠে এসেছে একাধিক মামলার সাজা; কারও এক বছরের কারাদণ্ড, কারও ছয় বছরের দণ্ড, সঙ্গে অর্থদণ্ড। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, চেক প্রতারণা, পেনাল কোড, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং অন্যান্য আইনে দায়ের করা একাধিক মামলায় আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পারভেজ এর আদালত, কুষ্টিয়ার প্রকাশিত আদেশের কপিতে এসব রায়ের তথ্য উঠে এসেছে।
আদালতের আদেশে দেখা যায়, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন তারিখে ঘোষিত রায়ে একাধিক আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
মাদক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
আদালতের প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা একাধিক মামলায় আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর জি.আর-৬৫৮/২০২২ নম্বর মামলায় ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত রায়ে আসামি ইসমাইল হোসেন স্বপনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া জি.আর-১১৭/২০২২ নম্বর মামলায় ১১ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মোছা. মাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া জি.আর-২১৭/২০২০ নম্বর মামলায় ১২ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি হিরোককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
ভেড়ামারা জি.আর-২৩৪/২০২১ নম্বর মামলায় ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মো. আনোয়ার মণ্ডলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
দৌলতপুর জি.আর-১১৫/২০১৯ নম্বর মামলায় ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মো. আহাদুল ইসলামকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর জি.আর-৩০০/২০২০ নম্বর মামলায় ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মো. তুষারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া জি.আর-২৮৬/২০১৯ নম্বর মামলায় ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মো. রুবেল রানাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ইবি জি.আর-৮৪/২০২০ নম্বর মামলায় ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি জুলফিকার আলীকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া জি.আর-৫৬৩/২০১৯ নম্বর মামলায় ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি নাসির উদ্দিনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
দৌলতপুর জি.আর-৩৯৯/২০১৯ নম্বর মামলায় ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি হাসমত কয়েলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া জি.আর-২৮১/২০২৩ নম্বর মামলায় ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি তুহিন শেখকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
চেকের মামলায় ছয় বছরের কারাদণ্ড
আদালতের আদেশে চেকসংক্রান্ত মামলাগুলোতেও কারাদণ্ডের তথ্য রয়েছে।
কুষ্টিয়া সি.আর-২৬২/২০২৪ নম্বর মামলায় ৫ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি ফেনসিকে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (সংশোধনী ২০০৬) ১৩৮ ধারায় ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চেকে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া সি.আর-১১৯৮/২০২২ নম্বর মামলায় ৬ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি আতিবুদা রহমানকে একই আইনের ১৩৮ ধারায় ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চেকে উল্লেখিত অর্থের বিষয়েও আদেশ রয়েছে।
ইবি সি.আর-৩০১/২০২৫ নম্বর মামলায় ১২ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মোছা. সাথি খাতুনকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চেকে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থের বিষয়ে আদালতের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া সি.আর-৯৯৬/২০২৫ নম্বর মামলায় ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি সাবিনা খাতুনকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চেকে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থের বিষয়েও আদেশ দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া সি.আর-৩৮৭/২০২৪ নম্বর মামলায় ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি হালিমা বেগমের বিরুদ্ধে চেকসংক্রান্ত আইনে কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। তবে আদেশের কপির ওই অংশটি অস্পষ্ট হওয়ায় সাজার সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে পাঠ করা যায়নি।
প্রতারণা, চুরি ও অন্যান্য মামলায় সাজা
কুষ্টিয়া সি.আর-৪৮/২০১২ নম্বর মামলায় ৫ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি ফিরোজ আল মামুন, মো. শওকত উল্লাহ সাগর ও সাখাওয়াতকে পেনাল কোডের ৪২০ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া জি.আর-৩১০/২০২১ নম্বর মামলায় ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি মো. মিরাজুল ইসলামকে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২(২) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
দৌলতপুর জি.আর-২৭৪/২০২৩ নম্বর মামলায় ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি ফয়সাল মণ্ডলকে পেনাল কোডের ৩৭৯/৪১১ ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
ইবি জি.আর-১০৬/২০২৩ নম্বর মামলায় ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি আরমান খন্দকার মাবুদকে পণ্য গ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
কুষ্টিয়া সি.আর-৭০২/২০২৫ নম্বর মামলায় ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত রায়ে আসামি উত্তম কুমার দত্তকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
আদালতের আদেশে যা বলা হয়েছে
আদেশের কপিতে বিভিন্ন মামলার নম্বর, রায় ঘোষণার তারিখ, আসামিদের নাম, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা, কারাদণ্ডের মেয়াদ ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।
তবে কয়েকটি মামলায় চেকের উল্লেখিত অর্থের পরিমাণ এবং কিছু আইনি ধারার তথ্য আদেশের কপিতে অস্পষ্ট। এসব ক্ষেত্রে মূল নথি যাচাই করে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আদালতের প্রকাশিত আদেশের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ রায় ও নথি যাচাই সাপেক্ষে সাজার বিস্তারিত তথ্য আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
