শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“নিয়ম বহির্ভূত প্রচার” রাজধানীতে প্রার্থীদের পোস্টার ব্যানার, বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিয়ম অমান্য করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এবার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও রাজধানীতে বিদ্যুতের পোল, মেট্রোরেলের পিলার, ভবনের দেয়াল ও গাছপালা ইতোমধ্যে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এ ছাড়া বিলবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার লাগিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালনকারী দুই সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেই দায় সেরেছে। দু-একদিন নামমাত্র অভিযান চালালেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পরই তারা কাজ শুরু করেছেন।

গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইসি নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রকাশ করে। প্রার্থীরা ২০টি করে বিলবোর্ড স্থাপন করে প্রচার চালাতে পারবেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া লিফলেট ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ আছে। তবে কোনো পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু দেখা গেছে, কোনো কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী তপশিল ঘোষণার আগেই ২০টির চেয়ে অনেক বেশি বিলবোর্ড বসিয়ে ফেলেছেন। পোস্টারও আছে চারদিকে। এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন ও এনসিপির প্রার্থীরা। এ ছাড়া রিপাবলিকান পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণাও চোখে পড়ছে।

পল্টন মোড়ে ট্রপিকানা টাওয়ারের সামনে দেখা যায়, ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে ভোট চেয়ে বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড। ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক’ এমন স্লোগান সংবলিত আরও কয়েকটি মাঝারি আকৃতির বিলবোর্ড আছে পল্টন মোড়সহ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিজয়নগর, কাকরাইল, নয়াপল্টন এবং শাহবাগ এলাকায়। গোটা এলাকা ছেয়ে গেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে। আব্বাস সমর্থক বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ‘সৌজন্যে’ লাগানো প্রতিটি বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে ভোট ও দোয়াপ্রার্থী হিসেবে ‘ঢাকা-৮ আসনের সর্বস্তরের জনগণ’-এর কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা-৮ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী ড. মো. হেলাল উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে বিশাল বিশাল বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নায়েবে আমির হেলালের পক্ষে বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড টানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে আগ্রহী শাহবাগ (পূর্ব) থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবীব। সেগুলোতে সংসদ সদস্য প্রার্থী হেলালের সমানাকৃতির ছবি রয়েছে আহসান হাবীবের। অনেকে বলছেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণার সুযোগে ভবিষ্যতে নিজের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের প্রচারণা এগিয়ে রাখছেন আহসান হাবীব। এই আসনের গোটা এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড আছে।

বিলবোর্ডের প্রচারণায় পিছিয়ে নেই একই আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফীও। পল্টন মোড় এলাকায়ই তাঁর হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে অন্তত পাঁচটি বিলবোর্ড আছে। তাঁর পক্ষে অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ঝোলানো হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের পক্ষে প্রচারের বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে পল্টন মোড়ে মতিঝিলমুখী সড়কের শুরুতেই। তাঁর ‘কোদাল’ মার্কার পক্ষে ভোট চেয়ে ছোট-বড় পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। পল্টন মোড়ের কাছেই রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত ত্রিদিব কুমার সাহার পক্ষের বিশালাকৃতির বিলবোর্ড। দলের কাস্তে মার্কার পক্ষে লাগানো বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে স্লোগান হিসেবে ‘মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষায় গণমানুষের ঐক্য ও সংগ্রাম গড়ে তুলুন’ লেখা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বৈষম্যহীন বামপন্থি-গণতান্ত্রিক শক্তির সরকার’ গঠনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী ফখরুল ইসলাম (শাপলা কলি প্রতীক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত প্রার্থী এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরীর (মোটর গাড়ি প্রতীক) পক্ষে পোস্টার ও ব্যানার-ফেস্টুন আছে বিভিন্ন এলাকায়।

বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করতে হবে সম্ভাব্য সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের। তপশিল ঘোষণার অনেক আগেই প্রচুর অর্থ ব্যয় করে মির্জা আব্বাসের পক্ষে এমন প্রচারণা চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্টন থানা বিএনপির এক নেতা সমকালকে বলেন, ‘প্রচারণায় এগিয়ে থাকার লক্ষ্যেই আমরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি। তপশিল ঘোষণা করায় এগুলো অপসারণ করতে হবে। তারপরও প্রচারেই প্রসার– এমন একটা কথা তো চালু আছেই।’ এ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ও দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গণমাধ্যম কে বলেন, ‘আমরা বরাবরই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার দাবি জানিয়ে আসছি। এলাকাবাসী,অমুক নেতা, তমুক নেতার মতো করে আমরা ব্যানার, বিলবোর্ড লাগাইনি। আমাদের দলের বিভিন্ন ইউনিট থেকে লাগানো হয়েছে। তবে নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। তপশিল ঘোষণা করায় আর লাগানো হবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তপশিল ঘোষণা করায় আচরণবিধি মেনে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা নিজ উদ্যোগে পোস্টার অপসারণ করবেন।

এদিকে সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব, জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন ও গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তারের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার। এর মধ্যে জামায়াত ও গণসংহতি আন্দোলনের বিলবোর্ড ও পোস্টারে কেবল এলাকাবাসী বা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষির নাম উল্লেখ নেই। বিজয় সরণি থেকে তেজগাঁ ফ্লাইওভারে ঢোকার প্রবেশ পথেই দেখা যায় পাশাপাশি দুটি বিলবোর্ড বাঁশের খুটির ওপর লাগানো। গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আকাতরের প্রচারণায় মাথাল প্রতীক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও দলীয় সভাপতি-সম্পাদকের ছবি এবং নিজের বড় ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিলবোর্ডে লেখা– ‘আপনার ভোট পরিবর্তন ও গণমানুষের পক্ষে হোক। ’খামারবাড়িসংলগ্ন সংসদ ভবনের পাশের সড়কদ্বীপ প্রার্থীদের ব্যানার-বিলবোর্ডে ঢেকে গেছে। এ ছাড়া ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত কোনো ভবনের সীমানা দেয়াল, খুঁটি খালি নেই। সবই যেন ঢেকে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব গণমাধ্যম কে বলেন, এসব বিলবোর্ড তাঁর দলের কর্মীরা উৎসাহী হয়ে লাগিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধিতে এসব লাগানোর নিয়ম না থাকলে কমিশন খুলে ফেলতে পারে। তপশিল ঘোষণার পর তো প্রচারণা চালাতে বাধা নেই।

অনুমোদনহীন বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার না লাগাতে গত ৪ ডিসেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে বলা হয়, ডিএসসিসি এলাকায় সম্প্রতি করপোরেশনের অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনায় বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও নির্বাচনী প্রচারণার প্রচারপত্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ‘দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’-এর পরিপন্থি। একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিএসসিসি এলাকার অনুমতিবিহীন সব ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও নির্বাচনী প্রচারপত্র ইত্যাদি নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) অনুরূপ গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। সাত দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ইত্যাদি অপসারণ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পরে দু-একদিন নামকাওয়াস্তে বিলবোর্ড-ব্যানার অপসারণ করলেও শাস্তির কোনো নজির দেখা যায়নি। গত ৮ ডিসেম্বর ডিএসসিসি সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অপসারণ করে। এর পর তেমন কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন,গত কয়েক দিনে পাঁচ শতাধিক অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। যারাই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থান ব্যতীত যেখানে-সেখানে ব্যানার-পোস্টার-বিলবোর্ড বসিয়ে শহরকে অপরিচ্ছন্ন করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।