রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় কথিত প্রেমিকের খোঁজে এসে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহের এক তরুণী। টিকটকে পরিচয়, হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, তারপর দূর শহর থেকে ছুটে আসা—শেষ পর্যন্ত সেই আস্থাই পরিণত হয়েছে আতঙ্কে। শুক্রবারের ঘটনার পর রোববার তিনি থানায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাত মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে পাংশার সজল নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সজল হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে উদ্বিগ্ন হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ময়মনসিংহ থেকে পাংশায় আসেন। সেখানে আকাশ মণ্ডল (২৯) ও জামাল মণ্ডল (২২) নামের দুই যুবক সজলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা এলাকায় নিয়ে গিয়ে একটি মাদ্রাসার উত্তর পাশে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের কক্ষে রাখা হয়। সজলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে ‘সকালে নিয়ে যাওয়া হবে’ বলে রাতে ওই কক্ষে থাকতে বাধ্য করা হয়। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আকাশ ও সজল কক্ষে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ আছে।
পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল-এ। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের ঝুঁকি ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
