পটুয়াখালীর উন্নয়নের স্বপ্নে যেন নতুন এক আলোর রেখা ছড়িয়ে দিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র) প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন। তাঁর শুভাগমনকে ঘিরে আয়োজিত হলো এক প্রাণবন্ত সুধী সমাবেশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, যেখানে উঠে এলো জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের নানা প্রতিশ্রুতি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৮টায় পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পরিষদ, পটুয়াখালীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভা পরিণত হয় উন্নয়ন ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা।
সভায় জেলার স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এলজিইডি’র চলমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে স্নেহাংশু সরকার কুট্টি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, পটুয়াখালীতে মেগা প্রজেক্টের নামে কোনো ধরনের মেগা দুর্নীতি চলবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রশাসক নয়, আপনাদের সেবক হতে চাই। তার এ বক্তব্যে উপস্থিত সুধীজনের মাঝে সৃষ্টি হয় এক আশাব্যঞ্জক আবহ, যেখানে উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে যায় আস্থা ও দায়বদ্ধতার এক নতুন বার্তা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে উপ-পরিচালক জুয়েল রানা বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ বেলাল হোসেন বলেন,
দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, এবং পটুয়াখালীকে আরও আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও মানসম্পন্ন কাজের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময়ে অংশ নেন প্রধান প্রকৌশলী। স্থানীয় উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি গণমাধ্যমের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় পটুয়াখালীর উন্নয়ন স্বপ্নের এক প্রত্যয়ী সন্ধ্যায়।
