উদ্ধার হওয়া ১৫৩ জন
কক্সবাজারের গভীর সমুদ্রে রুদ্ধশ্বাস মধ্যরাতের অভিযানে বড় ধরনের মানবপাচার চক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে দিল বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে সাগরপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জনকে। অভিযানে জড়িত সন্দেহে ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত—ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় ৩টা। সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর দক্ষিণ-পশ্চিমের গভীর সমুদ্রে একটি সন্দেহজনক ট্রলারে বিপুলসংখ্যক মানুষের অবস্থানের গোপন তথ্য পায় কোস্টগার্ড। সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান শুরু হয়। কোস্টগার্ড জাহাজ কামরুজ্জামান ট্রলারটিকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। শুরু হয় ধাওয়া—অন্ধকার সাগরে টানটান উত্তেজনা।
অবশেষে ট্রলারটিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর চিত্র—গাদাগাদি করে থাকা নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ১৫৩ জন। তাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল ‘উন্নত জীবন’, ‘উচ্চ বেতনের চাকরি’ আর ‘স্বল্প খরচে বিদেশ যাত্রা’র। বাস্তবে তারা পা বাড়িয়েছিলেন অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সাগরযাত্রায়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের জড়ো করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং আটক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সাগরের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা মানবপাচারের আরেকটি ভয়াল অধ্যায় এভাবেই ভেসে উঠল আলোয়—আর সময়মতো অভিযানে বাঁচল ১৫৩টি প্রাণ।
