ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সজীব প্রামাণিককে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর হাত-পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে এই ঘটনায় সজীবের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।
সজীব প্রামাণিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের পরীক্ষাগারের সহকারী (ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট) হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মুন্নাফ প্রামাণিক বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সজীবের স্ত্রী শাহজাদী আক্তার এবং তাঁর দুই ভাই শাহাদত হোসেন ও শামছুদ্দিন শাওনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় হত্যাচেষ্টাসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিন বছর আগে সজীব ও শাহজাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। কিছুদিন আগে শাহজাদী উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে বাবার বাসায় বেড়াতে যান। গত ১৮ জুন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে সজীব শ্বশুরবাড়িতে যান। পরদিন ১৯ জুন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহজাদী তাঁর দুই ভাইকে ডাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তারা সজীবকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে ভবনের পঞ্চম তলার বারান্দায় নিয়ে যান এবং একপর্যায়ে সেখান থেকে নিচে ফেলে দেন। এতে তাঁর দুই হাত-পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে যায়। পরে অভিযুক্তরাই তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সজীব তাঁর স্ত্রীর ভাই শাহাদত হোসেনকে পাঁচ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন, যা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করেও বিরোধ চলছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সজীবের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিয়ের পর থেকেই সজীব বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করত এবং আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। ঘটনার দিন আমার ছেলের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সে নিজেই পাঁচতলা থেকে লাফ দেয়। এর আগেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও রাতের প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অন্যদিকে সজীবের বাবা মুন্নাফ প্রামাণিক দাবি করেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে পাঁচতলা থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মারধরের পর বারান্দার গ্রিলের ওপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। বর্তমানে সে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে সজীবের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
