শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখায় সরকারের ইতিবাচক বার্তা দেখছে টিআইবি,নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ১২, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে আপাতত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্তকে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক এবং দুর্নীতিসহায়ক ‘কালো টাকা সাদা’ করার বিধান না রাখা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভিন্ন সময় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অজুহাতে অর্থবিলের মাধ্যমে এই সুবিধা পুনর্বহাল করা হয়েছে। তাই চূড়ান্ত বাজেটেও যেন কোনোভাবেই কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ ফিরে না আসে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলেও এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রকৃত আর্থিক লাভ হয়নি। বরং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়েছেন এবং কর ফাঁকির একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এবার এই দুর্নীতিসহায়ক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণাকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল  বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, এ বিষয়ে সরকারকে আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কঠিন হিসাব-নিকাশ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমিত আয়ের অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা যদি দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই দীর্ঘ ১১ বছর পর আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে টিআইবির মতে, নতুন পে-স্কেলের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে একদিকে যেমন জবাবদিহিতা বাড়বে, অন্যদিকে দুর্নীতি প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবাখাতে শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব প্রশংসার দাবিদার। পাশাপাশি বাজেট বক্তৃতায় কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সৎ করদাতারা যাতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর প্রদান করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি রোধে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কারণ, কর ফাঁকি দেশের রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

তিনি বলেন, ঋণনির্ভর বাজেট থেকে রাজস্বনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হলে যোগসাজশের মাধ্যমে সংঘটিত কর ফাঁকি বন্ধ করতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

টিআইবির মতে, দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বাজেটের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। :::

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।