মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গভীর রাতে মানিকনগরে রহস্যময় প্রাইভেটকার, ৩২ কেজি গাঁজা পাচারের অভিযোগে তোলপাড়, গাড়ি জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার
মে ২৫, ২০২৬ ১:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় গভীর রাতে একটি রহস্যজনক প্রাইভেটকারকে ঘিরে ৩২ কেজি গাঁজা পাচারের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রকাশ্যে আসে এই ঘটনা। পরে পুলিশ এসে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে এবং মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের আঁধারে ভুতের গলির সামনে এসে দাঁড়ায় একটি প্রাইভেটকার—যার নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ২৬-৮২৮৯। গাড়িটিতে ছিলেন দুই নারী ও এক যুবক।

তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী জানতে চান তারা কার বাসায় এসেছেন। এ সময় এক নারী দাবি করেন, তিনি আত্মীয়ের বাসায় এসেছেন এবং পরিচিত কেউ এসে তাকে নিয়ে যাবে। তবে কোন বাসায় যাবেন, সেটি তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। পরে তারা সেখান থেকে সরে যান।

ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন স্থানীয় এক সাংবাদিক ও কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি গাড়িটির ওপর নজরদারি চালানোর পরামর্শ দেন। অভিযোগ রয়েছে, রাত প্রায় ২টার দিকে বস্তাভর্তি গাঁজা সরানোর চেষ্টা করা হলে কয়েকজন যুবক তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা দুই নারী ও চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং কিছু মালামাল ফেলে পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলে মোট আটটি প্যাকেট ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ৪ কেজি করে গাঁজা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর মধ্যে কয়েকটি প্যাকেট সরিয়েও ফেলা হয়। পরে এলাকাবাসীর ভিড় জমে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা শিশির কুমার কর্মকার, ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইয়ুম বাহাদুর, এএসআই আলিম, কনস্টেবল সুলতানসহ অন্যান্য সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, কনস্টেবল সুলতান ঝুঁকি নিয়ে পাশের একটি ভবনের নিচে তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েকটি গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করেন। উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি তার সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া মাদকের প্রকৃত মালিক বা এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ একজনের নাম বলছেন, আবার কেউ অন্যজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করছেন। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে এবং গাড়ির নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এত বড় চালান দেখে বোঝাই যায় এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট ব্যাপকভাবে সক্রিয়। তারা সন্দেহ করছেন, কথিত কয়েকজন মাদক কারবারির মধ্যে কেউ একজন এই চালানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।