ফাইল ছবি সংগৃহীত
রাজধানীর উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রার আড়ালে যেন গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অন্ধকার রাজ্য—যেখানে ক্ষমতা, প্রভাব আর অর্থের গোপন লেনদেনে তৈরি হয়েছে বিতর্কিত এক সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর দুই কর্মচারী—জাহিদুল ইসলাম সবুজ ও ফাতেমা বেগম মলি।
অভিযোগের ক্যানভাস যেন এক রোমাঞ্চকর থ্রিলার—ঘুষ, দালালী, ভয়ভীতি আর অস্বচ্ছ সম্পদের জটিল গল্পে ভরপুর।
ফাইলের ভাঁজে লুকানো ক্ষমতার খেলা-রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সবুজ—নামটি এখন অনেকের কাছে এক রহস্যময় প্রভাবের প্রতীক। অভিযোগ উঠেছে, তার ‘৪২১ নম্বর কক্ষ’ যেন হয়ে উঠেছিল এক অঘোষিত দরবার, যেখানে ফাইল চলত টাকার বিনিময়ে, আর সিদ্ধান্ত বদলাত ঘুষের অঙ্কে।
ফাইল গায়েব, একই প্লট একাধিকবার বিক্রি, কিংবা ‘প্যাকেজ ঘুষ’—সব ক্ষেত্রেই যেন সবুজের ছোঁয়া। অথচ তার মাসিক বেতন যেখানে সীমিত, সেখানে জীবনযাপন বিলাসী—মাইক্রোবাস, বহুতল ভবনে বিনিয়োগ, আর রাজধানীর অভিজাত হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত—সব মিলিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন।
মলির নীরব প্রভাব: সিন্ডিকেটের অদৃশ্য সুতো
অন্যদিকে, জোন-৫ এর অফিস সহকারী ফাতেমা বেগম মলি—তার গল্প যেন আরও রহস্যে ঘেরা। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের চাকরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
প্রাক্কলন থেকে প্ল্যান পাস—প্রতিটি ধাপে নাকি তার অনুমতি ছাড়া কিছুই নড়ে না। ঠিকাদারদের বিল, বোর্ড সভার কাগজ—সবকিছুতেই টাকার গন্ধ। আর সেই গন্ধ থেকেই জন্ম নিয়েছে কোটি টাকার সম্পদ—পূর্বাচলে একাধিক প্লট, ঝিগাতলায় ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জ ও গ্রামের বাড়িতে স্থাবর সম্পদের বিস্তার। তার পরিচয়ও যেন এক নাটকীয় মোড় নেয়— নিজেকে শ্রমিক কর্মচারী লীগের ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ দাবি করলেও বাস্তবে এমন কোনো পদই নেই।
অভিযোগ, অস্বীকার আর তদন্তের প্রতিশ্রুতি
অভিযোগের ভারে যখন রাজউকের করিডোর ভারী হয়ে উঠেছে, তখন সবুজ দাবি করেছেন—সবই মিথ্যা, একটি চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে মলির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে—ফোনের ওপাশে শুধু রহস্যময় নীরবতা।
তবে দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়া অভিযোগগুলো ইতিমধ্যেই আলোড়ন তুলেছে। রাজউকের চেয়ারম্যানও বিষয়টি অবগত হয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, সত্য কি উন্মোচিত হবে?
রাজউকের অন্দরে ফিসফিস করে শোনা যায়—“তাদের আছে টাকা, আছে ক্ষমতা… তাই তারা অপ্রতিরোধ্য।”
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই অদৃশ্য সাম্রাজ্যের দেয়াল কি ভাঙবে? নাকি ফাইলের ভাঁজেই চাপা পড়ে থাকবে সত্যের আর্তনাদ?
সময়ের অপেক্ষা…।
