রবিবার, ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়, তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ১, ২০২৬ ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিষদের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তথ্যানুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, সাবেক এক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)-এর সময়ে পরিষদের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি, ক্রয় এবং অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতেও ওই বলয় সক্রিয় থেকে বিভিন্ন কর্মকর্তার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেদের নতুন পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রশাসনের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা এখনও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন।

প্রতিবেদনে অবসরে যাওয়া ডেসপাচ রাইডার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পিআরএলে যাওয়ার পরও তাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিষদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিষদের গোপন তথ্য বাইরে পাচার, বিভিন্ন ক্রয়কাজে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন, উচ্চমান সহকারী এস এম ইদ্রিস আলী, মাসুদুর রহমান, নিয়াজুল হাসান, সাজিয়া আফরিন, গোলাম মোস্তফা সরকারসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, প্রশাসনিক প্রভাব, পুরোনো মালামাল বিক্রিতে অনিয়ম, ক্যান্টিন পরিচালনায় অভিযোগ এবং আর্থিক অসঙ্গতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পুরোনো মালামাল বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে এস এম ইদ্রিস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই অর্থ তিনি নেননি; অন্য একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিষয়টি পরিচালনা করেছেন। জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের পক্ষে এসব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। অন্যদিকে ময়মনসিংহে বাড়ি নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুরোনো বাড়ি বিক্রির অর্থ এবং নিজস্ব অর্থায়নে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

পরিষদের ক্যান্টিন পরিচালনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার সরবরাহের পরিবর্তে নিম্নমানের খাবার উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিষদ বহন করলেও এ সুবিধার যথাযথ প্রতিফলন মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
নগর-মহানগর সর্বশেষ