এসির পাইপ বেয়ে ডিআইজির অফিসে দুই কালনাগিনী, রাতভর চাঞ্চল্য
বরিশাল পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে হঠাৎ দেখা মেলে দুই বিষধর কালনাগিনীর। অফিসকক্ষের সিলিং ও দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাপ দুটিকে ঘিরে সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য। পরে প্রায় তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সাপ দুটি উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভয়েস ফর ভয়েসলেস’-এর সদস্যরা।
রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে অংশ নেন সংগঠনটির সভাপতি ইয়াসিন এম তানভীর এবং পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা।
উদ্ধারকারীরা জানান, ডিআইজির অফিস কক্ষে সাপের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর তাদের কাছে খবর পৌঁছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান শুরু করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই নিশ্চিত হন যে সাপ দুটি কক্ষের সিলিং ও দেয়ালের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। সিলিং ও দেয়ালের একটি অংশ অপসারণ করে অবশেষে উদ্ধার করা হয় দুই কালনাগিনীকে।
সংগঠনটির সভাপতি ইয়াসিন এম তানভীর বলেন, উদ্ধার হওয়া সাপ দুটি কালনাগিনী প্রজাতির, যা মৃদু বিষধর হলেও এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা তুলনামূলক কম। প্রতিটি সাপের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন ফুট। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের এসির পাইপের পথ ধরে সাপ দুটি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেছিল।
সংগঠনের পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, অভিযানটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ সাপ দুটি দেয়াল ও সিলিংয়ের গভীরে লুকিয়ে ছিল। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে মানুষ ও সাপ—কোনোটিরই ক্ষতি না হয়। উদ্ধার শেষে সাপ দুটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অফিসকক্ষে সাপ থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ‘ভয়েস ফর ভয়েসলেস’-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার কারণেই সাপ দুটি নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা আরও জানান, কালনাগিনী প্রজাতির সাপ সচরাচর মানুষের চোখে পড়ে না। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই কোথাও সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
