নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (ডিসি অফিস) ঠিক সামনেই দিনের পর দিন সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও অভিভাবকরা। প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের একেবারে নাকের ডগায় প্রকাশ্যে সরকারি জায়গা দখল করে বালুর বিশাল স্তূপ ফেলে রাখার ঘটনাকে প্রশাসনিক নজরদারির জন্যও বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডিসি অফিসের মূল ফটকের সামনের সড়ক ও ফুটপাতের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে বালুর বিশাল স্তূপ। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের পথ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করছেন। সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ধুলার রাজত্ব
ঘটনাস্থলের ঠিক পাশেই রয়েছে কেমব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবককে এই পথ ব্যবহার করতে হয়। বালুর স্তূপ থেকে উড়ে আসা ধুলাবালিতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী কাশি, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলে জানান অভিভাবকরা।
দৈনন্দিন দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা বিরাজ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাস্তা দখল হয়ে থাকায় প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে সময়ের অপচয় এবং ভোগান্তি। ধুলাবালির কারণে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও বাসাবাড়ির মানুষও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
একজন পথচারী বলেন, ডিসি অফিসের সামনেই যদি সরকারি রাস্তা দখল হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে প্রতিকার চাইবে?
‘সিন্ডিকেটমুক্ত নারায়ণগঞ্জ’ গড়ার দাবি
সামাজিক সংগঠন ‘একতা সত্যি সমাজকল্যাণ সংগঠন’-এর সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যদি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দিনের পর দিন সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রাখতে পারে, তাহলে আইনের শাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা অবিলম্বে এই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে বালুর অবৈধ স্তূপ অপসারণ, সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।
এখন দেখার বিষয়—জেলা প্রশাসনের একেবারে সামনে গড়ে ওঠা এই অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান কবে হয়, আর সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলে কবে।
