শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা ওয়াসার বহুল আলোচিত ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি, গোপন চুক্তি এবং প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত সংস্থা ড্রিঙ্কওয়েল (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড)-এর সিইও মিনহাজ চৌধুরী এবং ঢাকা ওয়াসার সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার ঠিকাদার নাজমুল হোসেনের পক্ষে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।

পিপিএ-পিপিআর লঙ্ঘন ও গোপন চুক্তির অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, কম মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পটি শুরু করা হলেও কোনো উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) আহ্বান করা হয়নি। সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে গোপন চুক্তির মাধ্যমে ড্রিঙ্কওয়েলকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যথাযথভাবে ব্যবহার না করার কারণে প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ

ঢাকা ওয়াসার অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ: অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার ২৯৪টি ওয়াটার এটিএম বুথের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ঢাকা ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, গত ৯ বছরে পানি বিক্রি থেকে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ড্রিঙ্কওয়েল পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অফিস ব্যবহারে রাজস্ব বঞ্চনা: ঢাকা ওয়াসা ভবনে প্রায় বিনামূল্যে অফিস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় গত ৯ বছরে সংস্থাটি আনুমানিক সাড়ে ৫ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

মোট আর্থিক ক্ষতি: অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়, রাজস্ব বঞ্চনা এবং আয় বণ্টনে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও চুক্তি নবায়নের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ড্রিঙ্কওয়েলের সিইও মিনহাজ চৌধুরী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এবং তৎকালীন ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ. খানের একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ঢাকা ওয়াসার অভ্যন্তরের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চুক্তিটি বহাল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাসোহারা ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ জুন ২০২৬ উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই আরও পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাওয়া

আবেদনকারী নাজমুল হোসেন ড্রিঙ্কওয়েলের সিইও মিনহাজ চৌধুরী এবং ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গত ৯ বছরের আর্থিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ অডিট এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

তবে দুদকে করা অভিযোগের এসব তথ্য ও আর্থিক ক্ষতির দাবিগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।