বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তানোরে পুকুর পুনঃখনন প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক,ইউএনও ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ, পাল্টা অনিয়মের দাবি প্রশাসনের

রাজশাহী প্রতিনিধি
এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৫:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সরকারি পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান ও তার কার্যালয়ের কর্মচারী রাজন হোসেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন, ঠিকাদার ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পুকুর ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি স্থানীয় কৃষি ও জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তানোর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে এসকেএস ফাউন্ডেশন।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকায় পাঁচটি সরকারি খাস পুকুর পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫২ লাখ টাকার এই কাজের কার্যাদেশ পায় মেসার্স কুশ এন্টারপ্রাইজ। ১ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে আশা জাগে—পুনঃখননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ বাড়বে এবং কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন।

তবে কাজ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই জটিলতা দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও নাঈমা খান প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি পুকুর ভরাটের প্রস্তাব দেন, যা প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের কাজের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন এবং তা প্রকল্পের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঠিকাদার পক্ষ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে অপারগতা জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে নতুন অভিযোগ ওঠে—ইউএনওর পিয়ন রাজন হোসেন সমস্যা ‘সমাধান’ করার জন্য এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ঠিকাদার দাবি করেন, অর্থ না দেওয়ায় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে রাজন হোসেন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার মোড় ঘোরে যখন ইউএনও নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ঠিকাদার পক্ষের অভিযোগ, এ সময় খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরের ব্যাটারি ও সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালিগালাজের অভিযোগও তোলা হয়েছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন।

অন্যদিকে ইউএনও নাঈমা খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলে যান। তার দাবি, খনন করা মাটি বাইরে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহার। তিনি বলেন, নিয়ম নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ইমরান আলী জানান, তিনি কেবল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এর বাইরে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

এ ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে ঠিকাদার প্রশাসনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে প্রশাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, সমন্বয় ও লিখিত নির্দেশনা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত সমস্যার সমাধান চান। তাদের আশঙ্কা, কাজ বন্ধ থাকলে পানি সংকট আরও তীব্র হবে এবং কৃষকরা সেচের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সামগ্রিকভাবে, তানোরের এই ঘটনা একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে প্রশাসন, ঠিকাদার ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র তুলে ধরেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত সমাধানই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একমাত্র পথ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।