বরগুনার মাটি যেন আজও ফিসফিস করে বলে—উন্নয়নের গল্প, নাকি লুকানো কোনো অন্ধকার অধ্যায়?
সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাককে ঘিরে উঠেছে এমনই এক রহস্যঘেরা বিতর্ক, যেখানে অভিযোগ আর অস্বীকার মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর আবহ।
স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নের নামে বহু প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার অদৃশ্য সাম্রাজ্য। তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি
(পিইডিপি-৩)-এর আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ৩৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র-কাম বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্প—যেখানে দায়িত্বে ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। অভিযোগের ভাষ্য যেন এক নাটকের দৃশ্য—দরপত্রের আড়ালে লেনদেন, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, আর এক কোটি টাকার বেশি অবৈধ লেনদেনের গুঞ্জন।
এখানেই শেষ নয়—ইসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একাধিক বিদ্যালয়-কাম আশ্রয়কেন্দ্র, যেমন বাঁশবুনিয়া, লাঙ্গলকাটা, পুরাকাটা ও রায়েরতবক—সেখানে নাকি নিম্নমানের নির্মাণের কারণে বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় ফুটে ওঠে দুর্নীতির চিহ্ন। ছাদের ফাঁক দিয়ে চুইয়ে পড়া পানি যেন নীরবে বলে যায় অবহেলার গল্প, আর ব্যাহত করে শিক্ষার স্বপ্ন।
সড়ক উন্নয়নেও উঠেছে প্রশ্নের ঝড়। গর্জনবুনিয়া থেকে বাবুগঞ্জ বাজার সংযোগ সড়ক—যেখানে প্রাক্কলনের অংক আর বাস্তব কাজের ফারাক নিয়ে অভিযোগ। কোথাও কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ, কোথাও আবার নিম্নমানের নির্মাণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তা—সব মিলিয়ে এক জটিল কাহিনি।
স্থানীয়দের ভাষায়, এই সব কিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে বিপুল সম্পদের গল্প—বরগুনা, পটুয়াখালী, এমনকি ঢাকায় বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা। তবে এই সব অভিযোগকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর দাবি, কিছু অসাধু ঠিকাদার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে—একটি বাক্য, যা যেন এই রহস্যকাহিনির আরেকটি মোড়।
এ বিষয়ে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—
এ কি শুধুই অপপ্রচারের কুয়াশা, নাকি সত্যিই দুর্নীতির গভীর অরণ্যে হারিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের স্বপ্ন?
বরগুনার মানুষ এখন তাকিয়ে আছে—সত্য উন্মোচনের অপেক্ষায়, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়।
