ভারতে পাচারের আগেই জব্দ অশ্বগন্ধা শিকড়, ভারতীয় মদ, গাঁজা, স্কাফ সিরাপ, ভায়াগ্রা ও বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট; সীমান্তে চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে ৪৭ বিজিবি। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে নিরলস অভিযান অব্যাহত রেখেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক তিনটি সফল অভিযানে প্রায় ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, কাজিপুর বিওপি-এর একটি চৌকষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর বর্ডারপাড়া মাঠে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মালিকবিহীন অবস্থায় ফেলে রাখা ১১৪ কেজি বাংলাদেশি ভেষজ অশ্বগন্ধা শিকড় উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ভেষজের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
একই দিনে জামালপুর বিওপি-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার জয়পুর মাঠপাড়া এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ভারতীয় ২৮ বোতল মদ, ০.৯ কেজি গাঁজা, ১৯ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১ হাজার পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ২ হাজার ৮০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৮৫০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট। এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকা।
পরদিন ৩০ জুন, ধর্মদাহ বিওপি-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ধর্মদাহ মাঠে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১৯ বোতল মদ, ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩২৫ টাকা।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তারা সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
