শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফলোআপের ৫ম পর্বের (৪র্থ পর্ব) ফোনে নীরব আইয়ুব আলী, প্রশ্নের মুখে দুদকের নীরবতাও—নীরবতা কি জবাবদিহি এড়ানোর কৌশল?

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৩, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সাবেক প্রভাবশালী প্রকৌশলী আইয়ুব আলীকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানের এটি চতুর্থ পর্ব।

আগের পর্বগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ড্রেজিং ব্যয়, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জলযান ক্রয়, সম্পদের বিস্তার এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার বক্তব্য জানতে আইয়ুব আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

তার এই নীরবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে কেবল নীরব থাকাকে অভিযোগের সত্যতা বা দোষ স্বীকারের প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। বরং সংশ্লিষ্টদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগের মুখে দায়িত্বশীল ব্যক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন বাড়ছে, উত্তর মিলছে না

বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে—

প্রকল্প ব্যয়ে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ।

নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাতের দাবি।

দেশ-বিদেশে বিপুল সম্পদের অভিযোগ।

রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ।

এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু সেসব অভিযোগের তদন্তের বর্তমান অবস্থা, অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব কম তথ্য পাওয়া গেছে।

এ কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, হলে কোন পর্যায়ে আছে, কিংবা অভিযোগে কোনো ভিত্তি পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হতে পারে বলে মনে করছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা।

নীরবতা ভাঙার দাবি

প্রশ্ন উঠছে—

অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না কেন?

আর যদি অভিযোগের তদন্ত হয়ে থাকে, তবে সেই তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের অবস্থান কী?

এসব প্রশ্নের উত্তর না মেলায় জনমনে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হচ্ছে।

জবাবদিহিই হতে পারে আস্থার একমাত্র পথ

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং তদন্তকারী সংস্থার অবস্থান প্রকাশ্যে এলে জনআস্থা আরও শক্তিশালী হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা—উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এই অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্বে আইয়ুব আলীকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নতুন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

চলবে…

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।