শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

(ফলোয়াপ পর্ব-২)স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’—কুষ্টিয়া এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ঘিরে রহস্য, অনিয়মে তোলপাড়

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এস এম বাদল
এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় যেন এখন এক অদৃশ্য নাট্যমঞ্চ—যেখানে বদলির আদেশও থামাতে পারছে না ক্ষমতার অদ্ভুত প্রবাহ। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমদকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হলেও, তিনি এখনো বহাল তবিয়তে কুষ্টিয়া অফিসেই দায়িত্ব পালন করছেন—যা ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন ও রহস্যের ঘনঘটা।

এদিকে অফিস আদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্মারক নং ৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.১৮৭.১৮.২৬১৭, তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে ১ এপ্রিল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন গল্প—তিনি এখনো আগের কর্মস্থলেই সক্রিয়। এতে গুঞ্জন উঠেছে, বদলি আদেশ কি তবে অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে থমকে গেছে?

এদিকে, এলজিইডির অভ্যন্তরে আরও বিস্তৃত হয়েছে অনিয়মের অভিযোগের ছায়া। কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম ও মোছা: রত্নার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ বাণিজ্য ও অফিস নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অথচ এসব অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নিম্নমানের কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো রাতের আঁধারে বিল পেয়ে যাচ্ছে, আর যারা ভালো কাজ করছেন—তারাই হচ্ছেন হয়রানির শিকার। মার্চ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর যেসব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমে কথা বলেছেন, তাদের বিল আটকে দিয়ে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি তাদের চলমান প্রকল্পেও গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মেসার্স এমডি আব্দুস সামাদ খান নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করে জানায়, যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করলেও তাদের বিল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে। ৮ মার্চ বিল পরিশোধের আবেদন করার পর ১৫ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চঃ দাঃ) মো. শরিফ হোসেন লিখিতভাবে বিল পরিশোধ না করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ডাব্লুবিএম ও এজিং প্রকল্পের রিক্যাস্ট বিল ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।

সান্দেয়ারা থেকে পান্টি এবং নন্দলালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে সৎভাবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন প্রতিহিংসার শিকার। এতে করে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। কুষ্টিয়া এলজিইডির এই অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের আবহে প্রশ্ন একটাই—কবে ফিরবে স্বচ্ছতা, আর কবে থামবে এই অদৃশ্য ক্ষমতার খেলা?

এসব অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজু আহমেদ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো রেসপন্স করছেন না হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।