ছবি : সংগৃহীত
কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার কথা বলে একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে প্রায় ২০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে একই ভবনের এক গৃহবধূকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭) ছিলেন পুরো ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় যান। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবেও নাম লেখান।
বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন— সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঘটনার পর তদন্তে নেমে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা এবং লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।
পুলিশের ভাষ্য, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ফলে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার বিষয়টি তিনি আগে থেকেই জানতেন। সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশ এবং পরে নিরাপদে বের হয়ে যেতে সহায়তা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
