শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির বিদ্রোহীদের ঘিরে এনসিপির কৌশল—রাজনীতির নতুন সমীকরণে টানাপোড়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে টানতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে ওই বিদ্রোহীদের সমর্থন করায় বিএনপি থেকে ছিটকে পড়া নেতাকর্মীদেরও নিজেদের ছায়াতলে আনার চেষ্টা করছে দলটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়ে এনসিপি তাদের আস্থা অর্জনের কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে এনসিপিকে জানিয়েছে—জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ছাড়লে সহযোগিতা করা হবে। তবে বিএনপির এই প্রস্তাব নাকচ করেছে এনসিপি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, ঢাকার একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে এনসিপির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে মামলা ও কারাবাসের কারণে আলোচিত এই নেতা বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত। তাকে দলে ভিড়িয়ে রাজধানীতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চায় এনসিপি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন, যাদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদের মধ্যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা আবারও বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করছেন, তবে অন্তত একজনের সঙ্গে এনসিপি ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে সংসদে আলোচনার সুযোগ নিয়েও চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এক বহিষ্কৃত এমপি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সাড়া পাননি। পরবর্তীতে এনসিপি নিজেদের কোটায় তাকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সবার জন্য দলটির দরজা খোলা। তবে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত কাউকে দলে নেওয়া হবে না। আদর্শিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং সংস্কারমুখী নেতাদেরই স্বাগত জানানো হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি নেতা বহিষ্কৃত হন। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি দলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ ও তৃণমূলভিত্তিক নেতাদের দিকে নজর দিচ্ছে।

‘জিয়া-খালেদার অনুসারীদের’ স্বাগত
সাংগঠনিক বিস্তারের অংশ হিসেবে সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। এই সাক্ষাৎ ঘিরে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

মনজুর আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ উভয়েই জানান, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামে প্রভাবশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলতেই এই যোগাযোগ বাড়াচ্ছে এনসিপি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের সঙ্গে এনসিপি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা দলে এলে স্বাগত জানানো হবে।

বিদ্রোহীদের সমর্থকদের দিকেও নজর
শুধু বিদ্রোহী প্রার্থীই নয়, তাদের সমর্থনে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছে এনসিপি। নির্বাচনের পর অনেকেই নিজ এলাকায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাদের স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে এনসিপি দলে টানার চেষ্টা করছে।

ময়মনসিংহের এক বহিষ্কৃত নেতা জানান, দলীয় পদ হারিয়ে এবং মামলার চাপে তিনি এলাকায় থাকতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির প্রস্তাব তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে, যদিও তিনি বিএনপি ছাড়তে চান না।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে অভিজ্ঞ নেতাকর্মীদের দলে টানা জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র তরুণদের ওপর নির্ভর করে শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকার থেকেও ‘প্রস্তাব’
এনসিপির একটি সূত্র জানায়, সরকারের দিক থেকেও তাদের কাছে প্রস্তাব এসেছে—জামায়াতের জোট ছাড়লে সহযোগিতা করা হবে। তবে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা বিরোধী রাজনীতিতেই থাকতে চান এবং সরকারের সঙ্গে থেকে দল বিস্তারের পথে হাঁটবেন না।

তাদের মতে, অতীতে সরকারের সঙ্গে থেকে কোনো দলই শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী দিনগুলোতে সরকারবিরোধী অবস্থানেই সক্রিয় থাকবে এনসিপি।

সব মিলিয়ে, বিদ্রোহী নেতা-কর্মীদের ঘিরে বিএনপি ও এনসিপির এই কৌশলগত টানাপোড়েন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।