শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুয়া প্রকল্পের ফাঁদে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ: ‘NAARC চেয়ারম্যান’ আরিফুর রহমান রিপন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

৫,৬৬৩ বিদ্যালয়ে COVID-19 সামগ্রী সরবরাহের কথিত কার্যাদেশ দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ—CID তদন্তে প্রকল্পের কাগজপত্র নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য। ফাইল ছবি

শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে আরিফুর রহমান রিপন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। তিনি কথিত Nutrition and Autism Research Centre (NAARC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রিপন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করতেন—Public Procurement Act, 2006 (PPA 2006) এবং Public Procurement Rules, 2008-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর/বোর্ডের একটি প্রকল্প তিনি পেয়েছেন। কথিত ওই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছিল “CSSR Project – COVID-19”। এর স্মারক নম্বর হিসেবে 38.01.0000.700.14.25.020.2021 এবং তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ উল্লেখ করা হতো।

রিপনের দাবি ছিল, প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৫,৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কার্যাদেশ তিনি পেয়েছেন। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও তথ্য দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

CID তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তবে পরবর্তীতে CID-এর তদন্তে ওই প্রকল্পের অস্তিত্ব ও কার্যাদেশসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, প্রকল্প পাওয়ার দাবির পক্ষে যে কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ভুয়া বা জাল নথি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প পাওয়ার কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতার আবহ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ফলে পুরো ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায়

এদিকে রিপনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে YouTube ও Facebook—এর তথ্যও তদন্তকারীরা বিশ্লেষণ করছেন বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানোর বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি এখনও সক্রিয় ছিলেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘চক্রের মূলহোতা’—বিস্তৃত তদন্তের দাবি

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, শুধু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের নামে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, ভুয়া নথি তৈরির নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, আরিফুর রহমান রিপনকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের পরিধি উদঘাটন করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আরিফুর রহমান রিপনকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত/আসামি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তাঁর বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
নগর-মহানগর সর্বশেষ