মেয়ের সংসার ভাঙার পর এবার উপার্জনের একমাত্র সম্বল পুড়ে ছাই, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবার। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
ভোলার দুলারহাটে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে মেয়েকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসার পর এবার ওই গৃহবধূর মায়ের দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে মেয়ের জামাই ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। আগুনে দোকানে থাকা ফ্রিজ, টিভি, নগদ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে ভোলার দুলারহাট থানার নীলকমল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর নুরুল আমিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাশুড়ি বিবি কহিনুর (৫০) বাদী হয়ে দুলারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক চর নুরুল আমিন গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে রুবিনার সঙ্গে ভোলা সদরের চরনোয়াবাদ এলাকার গাজি মাঝির ছেলে মো. মনিরের (৩৫) বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মনির পতিতাবৃত্তি, জুয়া ও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। টাকা দিতে না পারলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি স্বামীর কথিত দেহব্যবসা বন্ধ করতে বললে স্ত্রীর ওপর নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন। এসব নির্যাতনে মনিরের ভাই মো. বেল্লাল (৪০) ও বাবা গাজি মাঝি (৬০) ইন্ধন জোগাতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে আশ্রয়
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় দুই বছর আগে বিবি কহিনুর তার মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এরই জেরে গত বুধবার গভীর রাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মনিরের নেতৃত্বে তার ভাই ও বাবা মিলে বিবি কহিনুরের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুনে দোকানে থাকা ফ্রিজ, টিভি, নগদ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
‘মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছে, এবার দোকান পুড়িয়ে পথে বসিয়েছে’
ভুক্তভোগী বিবি কহিনুর বলেন, “তারা আমার মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছে। এখন আমার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম দোকানটি পুড়িয়ে আমাদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দুলারহাট থানা পুলিশ জানায়, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
