প্রতীকী ছবি
রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত লাশ। কালো পলিথিনে মোড়ানো বস্তার ভেতরে থাকা মরদেহের সাত টুকরো অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক ও রহস্য।
রোববার দুপুরে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। এখনো নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
দুর্গন্ধ থেকেই মিলল ভয়ংকর সূত্র
পুলিশ জানায়, মান্ডা এলাকার প্রথম গলির একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থানে পড়ে ছিল পলিথিনে মোড়ানো বস্তা। ভবনটিতে নিয়মিত মানুষ বসবাস করলেও কেউ বুঝতে পারেনি সেখানে কী লুকিয়ে আছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের বাসিন্দারা তীব্র দুর্গন্ধ টের পান। পরে উৎস খুঁজতে গিয়ে এক ব্যক্তি বস্তাবন্দি খণ্ডিত লাশ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে মরদেহের সাত টুকরো অংশ উদ্ধার করে। তবে লাশের মাথা পাওয়া যায়নি।
অন্তত ৬ দিন আগের হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জালাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাথা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নিহতের বয়সও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পরিচয় শনাক্তে মাঠে সিআইডি ও পিবিআই
ঘটনার পর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)র ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের পরিচয় শনাক্তে আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিচয় মেলেনি।
রাজধানীর ব্যস্ত জনবসতির মাঝখানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কে এই অজ্ঞাত ব্যক্তি? কেন তাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করা হলো? আর কারাই বা রাতের অন্ধকারে বস্তাবন্দি লাশ এনে ফেলে গেল আবাসিক ভবনের নিচে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
