প্রতীকী ছবি
রাজধানীর রামপুরায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন একসময়ের আলোচিত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন খান পলাশ। শুক্রবার দুপুরে নিজ বাসার অদূরে সংঘটিত এ হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানায়, মাত্র এক মাস আগে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান পলাশ। একসময় তিনি পুলিশের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত ছিলেন।
জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে হামলা
পলাশের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানার সীমান্তবর্তী এলাকায়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, জুমার নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। দুপুর পৌনে ২টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের বিপরীত পাশে, নিজ বাসার কাছাকাছি পৌঁছালে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তার মাথা ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।
মোটরসাইকেলে এসে হামলা, তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখনো হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কিংবা আরোহীদের স্পষ্ট ছবি শনাক্ত করা যায়নি।
ওসি আরও জানান, হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ জোরালোভাবে কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ‘টার্গেট কিলিং’
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের মধ্যে একজন মোটরসাইকেল চালিয়ে অপেক্ষা করেন, অপরজন নেমে পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পলাশের শরীরে অন্তত দুটি গুলি লাগে। হামলার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিরাপত্তাকর্মীর চোখে হামলার মুহূর্ত
পলাশের বাসার নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, মাথায় গুলি করার পর হামলাকারীদের একজন পাশেই অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলে উঠে পড়েন। এরপর ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা এলাকা ত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের আমরা চিনতে পারিনি। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেছে।
দীর্ঘ অপরাধজীবন, এক মাস আগে জামিন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা ইয়াসিন খান পলাশ দীর্ঘদিন ধরে হাতিরঝিল-রামপুরা এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলাসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। মিজান হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিলের পর সেই সাজা পরিবর্তিত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেয়।
প্রায় দেড় দশক কারাভোগের পর মাত্র এক মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান। আর মুক্তির এক মাসের মাথায় প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলার শিকার হলেন এই আলোচিত ব্যক্তি।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
