রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শেরেবাংলা নগর এলাকার তিনটি সরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-২। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
র্যাব জানায়, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরিচালিত এ অভিযানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে দালাল চক্রের ১২ জনকে আটক করা হয়। আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ এই দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেত। এরপর নানা প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সমালোচনার বিষয় হলো, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করলেও দালাল চক্রের তৎপরতা থামেনি। এতে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি এবং সরকারি হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
র্যাব-২ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ যেন দালালমুক্ত পরিবেশে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পান, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য যে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে দালালদের দৌড়াত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে। চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের স্বস্তি ফিরবে। তবে দালাল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে পৃষ্ঠপোষকদের বিষ দাঁত উপরে ফেলার এখনই মোক্ষম সময়। অনুসন্ধানী পরবর্তী প্রতিবেদনে থাকছে দালাল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে গডফাদার কারা।
