ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নে জাতীয় সংসদে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, কেউ বলছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আবার কেউ বলছেন, যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না, তাই ‘ক্লিন ইমেজের’ ব্যক্তিরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য দিলে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা বিভ্রান্তি দূর হতো।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি।
এ সময় রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সবাই দলীয়ভাবে মনোনীত।
তার ভাষায়, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার চার মাসের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ আমরা জানতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে, যা সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন।
রুমিন ফারহানার এই প্রশ্নের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, আর নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
