শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার দুই দিন পর ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহারের পর শনিবার মধ্যরাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে থানা ত্যাগ করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টারের পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা কার্যালয় আদেশে ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপির জারি করা ওই অফিস আদেশে জাহাঙ্গীর আলমকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করার কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার রাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি।
ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যেই থানা
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে শাহ আলী থানা অবস্থিত। অথচ পুলিশের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ সময়মতো পৌঁছেছিল কিনা এবং কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা—এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কিনা এবং কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিএমপি কমিশনার
গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
গ্রেপ্তার ৯, উদ্ধার লুট হওয়া মালপত্র
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া মালপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একদিকে যেমন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
