নরসিংদীর রায়পুরায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ওয়ালিদের রহস্যজনক মৃত্যু; প্রেম, বিয়ে ও ক্ষোভের জেরে হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য। প্রতীকী ছবি
নরসিংদীর রায়পুরায় প্রেমের এক মর্মান্তিক পরিণতি যেন কাঁদাচ্ছে পুরো এলাকাকে। ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামে এক তরুণকে হত্যার পর কাপড়ে মুড়িয়ে লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় তার কথিত প্রেমিকার বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর মায়ের সঙ্গে উপজেলার বাহেরচর গ্রামের নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা এই তরুণের এমন নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার এক কিশোরীর সঙ্গে ওয়ালিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি মেয়েটির পরিবার। এতে তারা ওয়ালিদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে ওই কিশোরীকে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পরও সে ওয়ালিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে স্বজনদের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওয়ালিদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। এ সময় তারা কথিত প্রেমিকা ও তার পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ করতে থাকেন।
অবশেষে শনিবার রাত ১১টার দিকে খবর আসে, মেয়েটির বাড়ির পেছনে কাপড়ে মোড়ানো একটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ওয়ালিদের ছোট ভাই রোমানসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। ভাইয়ের নিথর দেহ দেখে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকালে উত্তেজিত এলাকাবাসী মেয়েটির বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, পুলিশ ওই তরুণের কথিত প্রেমিকার বাড়ির একটি ঘরের পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ওই মেয়ে, তার মা, বোনসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লাশ দাফনের পর নিহত ওয়ালিদের পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে আসবেন।
তবে উল্লেখ্য, ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলমান। মৃত্যুর কারণ, হত্যার পেছনের প্রকৃত ঘটনা এবং আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণসাপেক্ষ।
