বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অর্থের অভাবে নয়, অধিকারেই বিচার”—অসচ্ছল মানুষের পাশে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : পিএমও

রাজধানীর শাহবাগের হৃদয়ে, আলো ঝলমলে এক আয়োজনে উচ্চারিত হলো মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার—একটি প্রতিশ্রুতি, যেখানে ন্যায়বিচার কেবল আইনের বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জীবনের স্পন্দনে ছড়িয়ে পড়বে ভালোবাসার মতো।

‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন এক স্বপ্নের কথা বললেন—একটি সমাজ, যেখানে অর্থের অক্ষমতা কারো ন্যায্য বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

তিনি স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে বললেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অন্ধকার কারাগারে কাটানো দিনগুলোর কথা। সেই অন্ধকারেই তিনি দেখেছেন অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস—যারা শুধু অর্থের অভাবে বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দি থেকেছে। সেই বেদনা থেকেই যেন জন্ম নিয়েছে আজকের এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের আলোকে প্রতিটি মানুষ সমান—এটি শুধু একটি ধারা নয়, এটি এক গভীর মানবিক অঙ্গীকার। জাতিসংঘ ঘোষণার প্রতিফলনও এতে স্পষ্ট। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদায় ন্যায়বিচার পায়।

তার কণ্ঠে ছিল আশ্বাস, আর কথায় ছিল দায়িত্বের দৃঢ়তা— সরকার ইতোমধ্যে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির যে ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তা যেন এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে—হাজারো মানুষের জীবনে ফিরেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।

তিনি বললেন, “বিচার শুধু আদালতের দেয়ালে বন্দি নয়, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ—যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।”

এই উচ্চারণ যেন এক কবিতার মতো, যেখানে ন্যায়বিচার হয়ে ওঠে মানুষের মর্যাদা রক্ষার কোমল অথচ শক্তিশালী হাতিয়ার। সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট—
কেউ যেন শুধুমাত্র টাকার অভাবে আইনজীবীর দ্বারস্থ হতে না পারার কারণে ন্যায় থেকে বঞ্চিত না হয়। এই লক্ষ্যেই সংশোধন আনা হয়েছে প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধানে, শক্তিশালী করা হচ্ছে লিগ্যাল এইডের ভিত্তি।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে সম্মাননা পান ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস। পাশাপাশি, সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানিত করা হয় ব্র্যাক-কে—যার নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ গ্রহণ করেন সম্মাননা।

শেষে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান—
রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা রাখুন, কারণ এই রাষ্ট্র আপনাদেরই।
আসুন, আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি এমন এক মানবিক বাংলাদেশ—যেখানে ন্যায়বিচার হবে শুধু অধিকার নয়, ভালোবাসার মতো এক অবিচ্ছেদ্য সত্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।