শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আড়াই হাজার কোটি টাকার সিটিসিআরপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: এলজিইডির পিডি সাজ্জাদ কবিরকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়

আবদুর রহমান
জুলাই ১৭, ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ফটো

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্প (CTCRP) নিয়ে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক সরকার মো. সাজ্জাদ কবিরের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রকল্পটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগ করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।

এটি আমাদের অনুসন্ধানভিত্তিক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।

অভিযোগ রয়েছে, কোভিড-১৯ প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাজ্জাদ কবির নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত অবস্থায় বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্প পরিচালক সাজ্জাদ কবির, উপ-প্রকল্প পরিচালক জুবাইদা আক্তার, মো. শাহজাহান ও উজ্জ্বল ত্রিপুরা—এই চার কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা প্রকল্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আর্থিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। তবে তিন বছর অতিক্রম করলেও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ—যা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সাজ্জাদ কবির দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত আউটসোর্সিং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কনসালটেন্টদের ছাঁটাই করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নিজের পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের ৩২টি পৌরসভায় ৩৪টি আধুনিক মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপিতে ডিজাইনার নিয়োগের বিধান থাকলেও, সাবেক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া ডিজাইনারদের দায়িত্ব গ্রহণের পর বাতিল করে দেন সাজ্জাদ কবির। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কম খরচে নিম্নমানের ডিজাইন তৈরি করিয়ে সেই খাতে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের তিনটি কনসালটেন্ট প্যাকেজে তিনজন বিদেশি টিম লিডারের পদ থাকলেও, তাদের বাংলাদেশে কাজ করতে না এনে বেতন বাবদ লাখ লাখ টাকার ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

এদিকে, প্রকল্পভুক্ত বিভিন্ন পৌরসভায় মার্কেট, সড়ক, ড্রেন ও শৌচাগার নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম এবং আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের নথি, তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

অনিয়মের অভিযোগে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।