রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন: যুবককে জিম্মি করে নির্যাতন, আদায় ২৭ লাখ—আবারও ২৫ লাখ দাবি

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মে ৩, ২০২৬ ৫:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি সংগৃহীত

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা রায়হান চৌধুরী (৩০) নামে ওই যুবককে জিম্মি করে ইতোমধ্যে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি চক্রটি—আরও ২৫ লাখ টাকা না দিলে তার হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের এক পর্যায়ে রায়হানের একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়। এরপর গত ৪২ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীর বাবা আবু তাহের চৌধুরী বাদী হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানা-এ মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা করার পর থেকেই তারা আরও চাপে পড়েছেন বলে দাবি পরিবারের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা রায়হানের সহপাঠী হওয়ায় সহজেই তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। ইতালি থেকে ফ্রি ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলা হয়। প্রথমে ১০ লাখ টাকা এবং পরে আরও ২ লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব পাঠানো হয়। সেখান থেকে মিশর হয়ে অবশেষে লিবিয়া নেওয়া হয়।

লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে তাকে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে চক্রটি। পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে দেশে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছে ১৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয় পরিবার। জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করা হয়।

সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও রায়হানকে ইতালি পাঠানো হয়নি, এমনকি দেশে ফেরতও আনা হয়নি। বরং পুনরায় নির্যাতন চালিয়ে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীর বাবা আবু তাহের চৌধুরী বলেন, মামলা করে আমি আরও বিপদে পড়ে গেছি। আমার ছেলে কোথায় আছে, বেঁচে আছে কি না—কিছুই জানি না। আমাকে মামলা তুলে নিতে এবং আসামিকে জামিনে ছাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম জামিনের চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
নবীগঞ্জ থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে পুরো বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করবে।

ঘটনাটি নতুন করে মানবপাচার চক্রের নির্মমতা ও প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র সামনে এনে দিয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।