আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীজুড়ে নিরাপত্তার চাদর বিছিয়েছে র্যাব-৮ এর সিপিসি-১ (ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-১) পটুয়াখালী ক্যাম্প। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা, পশুর হাটে নির্বিঘ্ন কেনাবেচা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।

জেলা জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ আভিযানিক দল। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি জাল টাকা চক্র ও প্রতারকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে হাটে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন। ফলে ঈদের কেনাবেচায় বাড়তি স্বস্তি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শুধু পশুর হাটেই নয়, মহাসড়ক, ফেরিঘাট, লঞ্চ টার্মিনাল ও ব্যস্ত যাত্রীপথগুলোতেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা টহল। পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে সার্বক্ষণিক। বিশেষ করে কোরবানির পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র্যাব।
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও টার্মিনাল এলাকায় বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মার্কেট, বিপণিবিতান এবং প্রধান ঈদগাহ এলাকাতেও বাড়ানো হয়েছে সাদা পোশাকে নজরদারি।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে র্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। পশুর হাটে যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে র্যাব-৮ বদ্ধপরিকর। ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখা এবং ঈদের জামাতসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে র্যাব। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য বা ঘটনা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধও করেছে পটুয়াখালী ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ।
