রাজধানীর ব্যস্ততার ভিড়ে, যেখানে প্রতিদিনই ছুটে চলে জীবনের কঠিন বাস্তবতা—সেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর সামনের ফুটপাত যেন হঠাৎই বদলে গেল এক টুকরো স্বপ্নলোকের মতো। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব, ময়লা-আবর্জনা আর অসহনীয় দুর্গন্ধের স্মৃতি মুছে গিয়ে সেখানে এখন ফুটে উঠেছে নান্দনিকতার কোমল স্পর্শ—সারি সারি ফুলের টব, সবুজের স্নিগ্ধতা আর দেয়ালজুড়ে রঙিন গ্রাফিতির মায়াবী গল্প।
মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এমন রূপান্তর যেন নগরজীবনের ক্লান্ত হৃদয়ে এনে দিয়েছে এক চিলতে ভালো লাগার পরশ। মোকাররম ভবন থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এখন চোখে পড়ে সৌন্দর্যের এই নতুন অধ্যায়—যেখানে প্রতিটি আঁকিবুঁকি যেন শহরের গোপন কবিতা, আর প্রতিটি গাছ যেন নিঃশব্দে বলে যায় নতুন শুরুর গল্প।
এই রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এর প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। উদ্বোধনী মুহূর্তে তিনি বলেন, রাজধানী শুধু ইট-পাথরের শহর নয়—এটি দেশের মুখ, দেশের প্রাণ। তাই একে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য এবং মানবিক করে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।
তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, আবার ছিল মানবিকতার কোমল ছোঁয়া। হকারদের বিষয়ে তিনি জানান, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন অব্যবস্থাপনা চলবে না, তবে কাউকে বঞ্চিত করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। পরিকল্পনা রয়েছে—নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট স্থান এবং নিয়মের ভেতরে এনে হকারদের জন্যও একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৩৫০ ফুট এলাকা জুড়ে আঁকা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি। বসানো হয়েছে ৫৫০টি ফুলের টব, রোপণ করা হয়েছে ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। অপেক্ষমাণ স্বজনদের জন্য রাখা হচ্ছে ৫০টি বসার আসন, আর নির্মাণাধীন রয়েছে পাহাড়ের আদলে দুটি নান্দনিক স্থাপনা—যা শহরের ব্যস্ততার মাঝে এনে দেবে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা।
এই উদ্যোগ শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধন নয়—এ যেন ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝখানে এক টুকরো প্রশান্তির স্পর্শ, যেখানে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা ক্লান্ত চোখেও ধরা দেবে রঙিন স্বপ্নের আলো।
