শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: হিসাবরক্ষক মাসুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

কামরুল হাসান সোহাগ
জুলাই ২৫, ২০২৬ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাসুম রেজার টাকা নেওয়ার ছবি ভাইরাল

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষক মো. মাসুম রেজার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একাধিক ভিডিও ও লিখিত অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক জনবল নিয়োগের নামে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জুয়েল তালুকদার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার প্রকল্পে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক নিয়োগের উদ্দেশ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করছেন মো. মাসুম রেজা। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এ টাকা আমি নেব না, ওনারা আছেন, ওনারাই নেবেন। যদিও অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রকল্পের আওতায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নির্মাণাধীন হর্টিকালচার সেন্টারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি সৌমিক আরাফাত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, মাসুম রেজা ও একই প্রকল্পের গাড়িচালক শফিকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে সৌমিক আরাফাতের সঙ্গে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে গত ১৩ মে গাড়িচালক শফিকের স্ত্রী আকলিমা বেগমের সোনালী ব্যাংক হিসাব (২২১২৯০৯)-এ ১ লাখ টাকা* জমা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত মাসে গাড়িচালক শফিককে প্রকল্প অফিস চুক্তিভিত্তিক চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাসুম রেজা একাধিক ব্যক্তিকে আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার নামে ঘুষ গ্রহণ করেছেন।

সৌমিক আরাফাতের ভাষ্য, “আমাকে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক চাকরি দেওয়া হয়। এরপর চাকরি না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে টাকা ফেরত চাইলে মাসুম রেজা বলেন, ‘ঘুষের টাকা কি ফেরত হয়?’

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, সৌমিক আরাফাত নামের এক ব্যক্তি তাদের প্রকল্পে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে মাত্র এক সপ্তাহ কাজ করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, মাসুম রেজা নামের কাউকে তিনি চেনেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষক মো. মাসুম রেজা প্রথমে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে পরে ভিডিও ও লিখিত অভিযোগের কপি দেখানো হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।

ঘটনাটি ঘিরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।