গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত আচরণসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি।
কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষার প্রচলিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কয়েকজন প্রকৌশলীকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সেই বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্যতম।
এছাড়া আদালতের নির্দেশনা, সিনিয়রিটি নির্ধারণ এবং চাকরিতে যোগদানের তারিখ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ-সংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিসিএস ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ ও নারী সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মক্ষেত্রে তার আচরণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
আবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর এক নারী জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দীর্ঘদিন মোতাবিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে বিভিন্ন হোটেলে, রমনা পার্কে সময় দিয়েছে। মাঝে মাঝে লংড্রাইভে গাড়িতে আমাকে নিয়ে ঘুরছেন। আসলে জাহাঙ্গীর আলম মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অনেক নারীকে প্রতারিত করছে।
এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘উড ডিভিশন’-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার কার্যক্রম এবং ফার্নিচার ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের মতে, কিছু প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, যেহেতু অভিযোগগুলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনমনে এখন প্রধান প্রশ্ন—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা কী, এবং চলমান বা সম্ভাব্য তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোন কল গ্রহণ করেননি।
বিস্তারিত থাকছে…….
