বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: নববধূকে অপহরণের চেষ্টা, এসএসসি পরীক্ষার্থী ইশরাত পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত, অভিযোগ করায় পরিবারে হামলা-হুমকি

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
মে ১৩, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দুটি গ্রামের মানুষ। নববধূ ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ইশরাত জাহানকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কিশোর গ্যাং লিডার আল-আমিনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, হামলা ও ভয়ভীতির কারণে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ওই পরীক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ করায় দুই দফায় হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে। বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রাম ও পাশ্ববর্তী কাশিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামে। অভিযুক্ত আল-আমিন বসুয়ারা গ্রামের কুব্বাস মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আল-আমিন একই গ্রামের কাতার প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ইশরাত জাহানকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তবে ইশরাত কোনোভাবেই তার প্রস্তাবে সাড়া দেননি। একপর্যায়ে ইশরাতের বিয়ে ঠিক হয় কাশিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির সাকিব হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের খবর জানার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আল-আমিন ও তার অনুসারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার রাতে আল-আমিনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাং মোটরসাইকেল ও হাইয়েস মাইক্রোবাসযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইশরাতকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় এলাকাবাসী টের পেয়ে ধাওয়া দিলে গ্যাং সদস্যরা একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়।

পরদিন শনিবার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূ ইশরাতকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু রোববার রাতেও থামেনি হামলার ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, আল-আমিনের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে কাতালিয়া গ্রামে ইশরাতের শ্বশুরবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় ইশরাতের শ্বশুর মাঈন উদ্দিন, শাশুড়ি নুরজাহান বেগম, দেবর মো. সায়মনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত সায়মনের মাথায় ১৫টিরও বেশি সেলাই লেগেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সোমবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ইশরাত জাহান। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন পরীক্ষার্থীকে সন্ত্রাসী তাণ্ডবের মাধ্যমে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপে ইশরাতের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়। সোমবার সকালে ইশরাতকে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে তার ছোট বোন খাদিজা আক্তারকে গোপালনগর মহিলা মাদরাসার সামনে থেকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে একই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। খাদিজার চিৎকারে শিক্ষক, ছাত্রী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে গ্যাং সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও আল-আমিন ও তার কয়েকজন সহযোগীকে মাদকসহ আটক করেছিল এলাকাবাসী। পরে সামাজিক বৈঠকে ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার পেয়ে যায় তারা। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে কিশোর গ্যাংটি।

সড়েজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বসুয়ারা ও কাতালিয়া গ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে আল-আমিন ও তার সহযোগীরা। কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে অনেকেই রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত কিশোর গ্যাং লিডার আল-আমিনসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ