কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান
কুমিল্লায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুর অভিযোগের জবাবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের দেওয়া কড়া প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সভায় দু’পক্ষের কথোপকথনের ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রোজী আকতার। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু অভিযোগ করেন, “আপনি কুমিল্লায় আসার পর ফ্যাসিস্টরা আবার সক্রিয় হয়েছে। তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
এই অভিযোগের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন! কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সেটা আইন ও তদন্তের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ তোলা ঠিক নয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি।
বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কার্যত ভেঙে পড়েছিল। সেই নাজুক পরিস্থিতি থেকে বাহিনীকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, গত ১৭ বছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং নতুন সরকারকে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। একটি শিশুরও খেতে শিখতে ৯-১০ মাস সময় লাগে। তাই বাস্তবতা বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা উচিত।
বিচারহীনতার অভিযোগও নাকচ করে পুলিশ সুপার বলেন, দেশে বিভিন্ন আলোচিত মামলায় বিচার হয়েছে, অনেকের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং বহু মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি নিজেও দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, শুক্রবার রাতে ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া লাকসামের জিসানের বাবা বাবুল সর্দার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে আওয়ামী লীগের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তিনি শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কথা বলেছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি কুমিল্লার নয়, ঢাকায় ঘটেছে। তাই তথ্য-উপাত্ত যাচাই ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আলোচনা সভায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
