মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জঙ্গল সলিমপুরে মধ্যরাতের তাণ্ডব: র‍্যাব ক্যাম্পে গুলি, রাস্তা কেটে অবরুদ্ধ করে হামলা — যৌথ অভিযানে আটক ২৫

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
মে ২৫, ২০২৬ ৫:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জঙ্গল সলিমপুর। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় র‍্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে। শুধু গুলিবর্ষণই নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য ভ্যাকু মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয় পুরো সড়ক। রাতভর টানটান উত্তেজনার পর পুলিশ, র‍্যাবসহ যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে আটক করা হয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫ সন্দেহভাজনকে।

রোববার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। জানা গেছে, সলিমপুর-আলীনগর সড়কের পরপর তিনটি স্থানে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করে যান চলাচল কার্যত অচল করে দেয় হামলাকারীরা। এরপর শুরু হয় র‍্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ।

শুধু হামলাই নয়, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নির্মাণাধীন ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থাপনা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে ভয়ংকর এই তাণ্ডব।

র‍্যাবের দাবি, কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘ইয়াসিন বাহিনী’র সদস্যরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। নানা বাধা ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আলীনগর এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক যৌথ অভিযান।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান র‍্যাব সদস্যরা। বাহিনী যাতে দ্রুত পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য আগেই রাস্তা কেটে রাখা হয়েছিল।

তবে খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের যাচাই-বাছাই চলছে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীতে পাহাড়ঘেরা দুর্গম পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় জঙ্গল সলিমপুরে। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে ইয়াসিন বাহিনী।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো বড় ধরনের যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত ওই অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয় বাহিনী; বরং হামলার শিকার হন প্রশাসনের সদস্যরা।

পরবর্তীতে এলাকাটিতে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ও র‍্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। আলীনগরে নির্মাণাধীন র‍্যাব ক্যাম্পটিই ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ। তবে সর্বশেষ হামলায় সেই ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

অভিযানে এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কুখ্যাত ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন এবং রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরজুড়ে তাই এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।